ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ভারতকে নাস্তানাবুদ করে ফাইনালে ইংল্যান্ড

চলতি টি২০ বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ভারত-পাকিস্তানের ফাইনালের লড়াই হচ্ছে না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ের যোগ্যতাও অর্জন করতে পারল না বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা। বুধবার বাবর আজমের দল নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখলেও গতকাল ভারত সেই পথে হাঁটতে পারেনি। ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের কাছেই নাস্তানাবুদ হয়েছে ভারত। ফলে ২৪ বল বাকি থাকতেই ১০ উইকেটের ব্যবধানে জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ইংলিশরা।

বৃহস্পতিবার অ্যাডিলেড ওভালে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করে ভারত। জবাবে ১৬ ওভারেই বিনা উইকেটে ১৭০ রান করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জস বাটলারের দল। জস বাটলার অপরাজিত ৮০ ও অ্যালেক্স হেলস অপরাজিত ৮৬ রান করেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন অ্যালেক্স হেলস।

১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য সামনে থাকলে স্নায়ুচাপে ভোগা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার অ্যালেক্স হেলস ও অধিনায়ক জস বাটলারের ব্যাটে চাপের কোনো লক্ষণই ছিল না। ভারতের বোলারদের কচুকাটা করে রেকর্ড জুটি গড়ে তারা দলকে তুলেছেন টি২০

উদ্বোধনী জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ১৭০ রান তোলেন বাটলার ও হেলস। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে এটি সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। আগের কীর্তি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক ও রিলি রুশোর। তারা চলতি আসরেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সুপার টুয়েলভে ১৬৮ রান যোগ করেছিলেন দ্বিতীয় উইকেটে।

আগামী রোববার ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়। টি২০ বিশ্বকাপে এই প্রথম দুই দলের শিরোপা লড়াই দেখবে ক্রিকেটবিশ্ব।

গতকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের দেওয়া ১৬৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার বাটলার ও হেলস পাওয়ার পেস্নর ৬ ওভারেই ৬৩ রান তুলে ফেলেন। শুরুতে বাটলার বেশি আক্রমণাত্মক হলেও পরে তিনি দেখেশুনে ব্যাটিং করেন। পরে বাটলার থামলেও আরেক ওপেনার হেলস ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন। যার ফলে মাত্র ২৮ বলে ৫ ছক্কা ও এক বাউন্ডারিতে ফিফটি তুলে নেন হেলস- এই ডানহাতি ব্যাটার। এরপর খোলস থেকে বের হন বাটলারও। তিনিও তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি।

যার ফলে ভারতীয় বোলারদের নাস্তানুবাদ করে ছাড়ে এই জুটি। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারেই বিনা উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যান তারা। বাটলার ৪৯ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৮০ ও অ্যালেক্স হেলস ৪৭ বলে চার বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের ছয় বোলারের কেউই উইকেট তুলে নিতে পারেননি। কয়েকজন ছিলেন রীতিমতো খরুচে। পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ২ ওভারে দেন ২৫ রান। মোহাম্মদ শামি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ৩ ওভারে আসে যথাক্রমে ৩৯ ও ৩৪ রান। অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ২ ওভারে ইংল্যান্ড নেয় ২৭ রান।

এর আগে অ্যাডিলেড ওভালের ম্যাচে প্রথম ইনিংস শেষে ভারতের সংগ্রহ ১৬৮ রান। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান টি২০ বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ ফিফটি (৫০) তুলে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। পাঁচে নেমে তান্ডব চালানো ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরির (৬৩) স্বাদ নিলেন হার্দিক পান্ডিয়া।

টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৯ রানে লোকেশ রাহুলের উইকেট হারায় ভারত। শুরুতেই উইকেটের ধাক্কা খাওয়া দলটি প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান করে। ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়ান বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মা। তবে তাতে ৬ ওভারে ৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি ভারতীয়রা।

দ্বিতীয় উইকেটে কোহলির সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়েন রোহিত। ভারতের অধিনায়ককে ফিরিয়ে সে জুটি ভাঙেন ক্রিস জর্ডান। বড় স্কোর করতে পারেননি সূর্যকুমার যাদবও। ১০ বলে ১৪ রান করে ফিরেছেন আদিল রশিদের বলে।

চতুর্থ উইকেটে হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে বড় জুটি গড়েন কোহলি। ৩৯ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে পরের বলে আউট হন ডানহাতি তারকা এ ব্যাটার। শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার ৩৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ১৬৮ রানের সংগ্রহ পেয়ে যায় ভারত। ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন জর্ডান। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ক্রিস ওকস ও স্যাম কারান।

ভারত ইনিংস :২০ ওভারে ১৬৮/৬ (রাহুল ৫, রোহিত ২৭, কোহলি ৫০, সূর্যকুমার ১৪, পান্ডিয়া ৬৩, পান্ত ৬, অশ্বিন ০*; স্টোকস ০/১৮, ওকস ১/২৪, কারান ০/৪২, রশিদ ১/২০, লিভিংস্টোন ০/২১, জর্ডান ৩/৪৩)।

ইংল্যান্ড ইনিংস :১৬ ওভারে ১৭০/০ ( জস বাটলার ৮০*, অ্যালেক্স হেলস ৮৬*; ভুবনেশ্বর ০/২৫, অ্যালেক্স প্যাটেল ০/৩০, মোহাম্মদ শামি ০/৩৯, হার্দিক পান্ডিয়া ০/৩৪, অশ্বিন ০/২৭, অর্শ্বদীপ সিং ০/১৫)।

ফল :ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা :অ্যালেক্স হেলস।

;