খুলনা সংবাদদাতা
গায়ে সাদা শার্ট-কালো প্যান্ট, পায়ে কেডস্-পিঠে কালো স্কুল ব্যাগ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে পায়ে হেটে আধা কিলোমিটার দূরে ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র নিরব মন্ডল(১৩) গুটুদিয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৌছায়। কিন্ত স্কুল ছুটির পর বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা পার হলেও সে বাড়ি ফেরেনি। শেষে পুলিশ-কে জানানোর পর রাত ১টায় তারই স্কুলের একটি পরিত্যাক্ত ঘর থেকে নিরব’র নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে।
এলাকাবাসী পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া পূর্ব-পাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী শেখর মন্ডলের ছেলে নিরব প্রতিদিনের মতো কাছেই খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক লাগোয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পরও সে বাড়ি ফেরেনি। তবে দুপুর সাড়ে ৩টার সময় পরিচয় না দিয়ে তার বাবার কাছে ০১৮৬২০৯০১৮১ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে বলে-‘তোমার নিরব আমাদের কাছে আছে। ৫ দিনের মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে তাকে নিয়ে যাও। আর থানায় জানালে বিপদ আছে।’ ১৬ সেকেন্ড কথার পর ফোন বন্ধ। তখন নিরবের বাবা গুটুদিয়ার গায়ের হাটে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যেয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে ডুমুরিয়া থানাকে ঘটনা জানায়। তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ কনি মিয়া খুব দ্রুতই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় হুমকি দেওয়া মোবাইল সিমের (ফোন) ব্যক্তি ও চিহ্নিত করে সিম’র মালিক কলেজ ছাত্র জোবায়ের আলী কাজী-কে আটক করে। তারপর পর্যাক্রমে ওই ফোনে কথা বলা ৫ জনকে চিহ্নিত করে রাত ১২টার মধ্যে পুলিশ বাড়ি থেকে একই স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র- পিয়াল রায়(১৬), ৯ম শ্রেণির- পিতু মন্ডল(১৫), সোহেল মোল্লা(১৫), হিরক রায়(১৫), ৬ষ্ঠ শ্রেণির- দীপ মন্ডল(১২)-কে থানায় নিয়ে যায়। এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আটক পিয়াল পুলিশকে ঘটনা খুলে বলে। তখন থানার ওসি-সহ অন্যান্য কর্মকর্তা পিয়াল-কে নিয়ে গুটুদিয়া স্কুলের পেছনে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে যান। এবং ময়লা আবর্জনা দিয়ে ঢাকা নিরব’র মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ প্রসঙ্গে গুটুদিয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর মন্ডল বলেন, স্কুল ছুটির পর সাড়ে ৪টার দিকে নিরবের বাবার কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর থানার ওসি সাহেবকে জানাই। পুলিশ রাত ১টার দিকে ১০ম শ্রেণির পিয়ালের ¯স্বীকারোক্তি মোতাবেক স্কুলের পেছনে একটি পরিত্যাক্ত ঘর থেকে ময়লা-আবর্জনায় ঢাকা নিরব’র মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত নিরবের শোকাহত বাবা শেখর মন্ডল কেঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক চরম শাস্তি চাই। ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ কনি মিয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের স্বীকারোক্তি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে, টিভিতে ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে হুবহু ওই পলিসি অনুসরণ করেই পরিকল্পিত ভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে নিরবকে হত্যা করেছে। তারা টাকা পওয়ার আশায় গত ১-দেড় মাস ধরে চেষ্টা করছিলো। গত সরস্বতি পুজাঁর সময়ও এরা একবার চেষ্টা করেছিলো। এই ঘটনায় প্রধান ভুমিকায় ছিলো ৯ম শ্রেণির পিতু ও সোহেল। তারা দীপ, পিয়াল ও হিরক-কে যুক্ত করেছে। গতকাল ছুটির পর পিয়াল, নিরব-কে ওই ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। আসামীদের আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান ও মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
.