জাহিদুল ইসলামঃ
গুণগত মান সম্পন্ন আখ উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক খামার দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় চুয়াডাঙ্গা সদরের দর্শনা হিজলগাড়ী কৃষি খামারে কেরু এ্যান্ড কোং (বাং) লিঃ কৃষি বিভাগের আয়োজনে এ মাঠ দিবস পালিত হয়। কেরুজ চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আখ ফসলের কোন অংশই ফেলনা নয়। আখক্ষেত পরিচর্যাকালীন যে সমস্ত শুকনো পাতা ও মরাগাছ মাঠ থেকে অপসারণ করা হয় তা বিক্রি করে আখচাষি কিছু নগদ অর্থ উপার্জন করতে পারে। কারণ বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। আখচাষের মাধ্যমে প্রয়োজনের সময় এসব জ্বালানির জোগান পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া আখ কাটার সময় আখের যে তাজাপাতা পাওয়া যায় গবাদিপশুর জন্য তা সবচেয়ে উপযোগী খাবার। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আখের পাতা খাওয়ানোর ফলে গবাদি পশুর দুধের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আখ এমন একটি ফসল যার রোপণকাল থেকে ১০-১৪ মাস সময় প্রয়োজন হয়। এ সময়ে বিভিন্ন পরিচর্যার ওপর আখের সঠিক বৃদ্ধি ও গড় উৎপাদন নির্ভর করে। আখের পরিচর্যা শ্রমিক নির্ভরশীল বিধায় আখচাষের মাধ্যমে কৃষি শ্রমিকদের সারা বছর কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব। এক হেক্টর আখের জমি লাগানো থেকে কাটা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শ্রমিক-দিবসের প্রয়োজন হয়। অন্য কোন ফসল আবাদের জন্য এত শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। দেশের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা, যেখানে কৃষি শ্রমিকদের কাজ ধানচাষের উপর নির্ভরশীল, আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারা (কৃষি শ্রমিকরা) কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করে, সেখানে আখচাষের মাধ্যমে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের
(বিএসএফআইসি) সচিব চৌধুরী রুহুল আমিন কায়সার বলেন, আখ চাষের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সহজেই সম্ভব। শুধু এ বিষয়ে আমাদের সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের তৎপরতা দরকার। কারণ আখ চাষের জন্য বিশেষত চিনিকলবহির্ভুত গুড় উৎপাদন এলাকায় কিংবা চিবিয়ে খাওয়া আখ উৎপাদন এলাকায় আখ চাষ নিয়ে কথা বলার জন্য সাধারণত কেউ থাকে না। তাই আখ চাষ করে যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায় তা অনেকেরই অজানা। অতএব প্রথমেই বলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। দর্শনা কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, চিনিকলবহির্ভূত এলাকায় আখ ও সাথীফসল চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে যেমন কৃষি শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব তেমনি উৎপাদিত আখ, গুড় উৎপাদনে ব্যবহার করে চিনিকলের ওপর চাপ কমানোর মাধ্যমে গুড় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে দেশের চিনি ও গুড়ের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখা সম্ভব। এতে গুড় শিল্পে মানুষের কাজ করার সুযোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে চিনি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাঁচানো সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের ডিজিএম মাহবুবুর রহমানের উপস্থাপনায় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন, ব্রিট্রিশ টোবাকোর রিজিওনাল ম্যানেজার
একে সাজ্জাদ তালুকদার, কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, আখচাষি কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুল বারী বিশাস, ফুরশেদপুর কৃষি খামার ইনচার্জ ইমদাদুল হক, সিডিএ সাহেব আলী শিকদার কৃষক সাইফুল আজম মিন্টু।
মহা ব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূইয়া, ব্যবস্থাপক (খামার) সুমন কুমার সাহা, মহা-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ইউসুফ আলী, বীজ পরিদর্শন ও কৃষি তত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন,
উপ-ব্যবস্থাপক (পরিঃপ্রকৌঃ) আবু সাঈদ, কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের সিপিও
আবু তালহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন
কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল ইউনিটের সিডিএ এবং এলাকার আখ চাষিরা।