ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

খুলনার ডুমুরিয়ায় মিষ্টি পানিতে বাগদা চাষে তবিবরের সাফল্য

সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় হাসানপুর গ্রামের চিংড়ি চাষি তবিবুর রহমান মিষ্টি পানির ঘেরে নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে এলাকায় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলায় শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষির পুরষ্কারও পেয়েছেন। সফল চাষি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের চিংড়ি চাষি তবিবুর রহমান জোয়াদ্দার (৪৮) নিজের ১ একর ২০ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে মিষ্টি পানিতে গলদা চিংড়ি ও রুই-কাতলা জাতীয় মাছের চাষ করতেন। ২০২১ সালে তিনি বাগদা চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লোকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে ওই চিংড়ি ঘেরের মিষ্টি পানিতে বাগদা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ওই ঘেরের ৮ শতাংশ ক্যানেল (খাল) জীবানু নাশক দিয়ে পরিষ্কার করে বাজার থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৫ বস্তা লবন এনে ক্যানেলের পানিতে ঢালেন। এর ৩ দিন পরে উন্নত জাতের ৫০ হাজার বাগদা রেনু ছাড়েন। ওই ক্যানেলে ১৫ দিন ধরে খাবার দিয়ে পরিচর্যার পর বাগদা পোনাগুলো ১ ইঞ্চিথর মত বড় হওয়ার পর বোরিং থেকে মিষ্টি পানি তুলে আস্তে আস্তে ঘেরটি ভরে দেন। এরপর ২টি এরেটরের (অক্সিজেন প্লান্ট) মাধ্যমে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি একটানা ৯০ দিন যাবৎ সিপি খাবারের সঙ্গে সামান্য লবন মিশিয়ে খাওয়ানো-সহ নিয়মিত ওষুধ-পরিচর্যা শেষে মাছ ধরেন। সে বছর তিনি গড়ে ৮থশ ৮০ টাকা কেজি দরে আড়তে ২৮ মন বাগদা (অনুমান ৩৫ হাজার পিস) বিক্রি করে ১২ লাখ টাকা আয় করেন। এরমধ্যে ৮ লাখ টাকা খরচ বাদে ৪ লাখ টাকা লাভ হওয়ায় চাষির সামনে স্বপ্নের নতুন দুয়ার খুলে যায়। ৪ লাখ টাকা লাভের পর ২০২২ সালে তবিবুর বড় আশা নিয়ে অনেক মৎস্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘেরে পানির গভীরতা বাড়াতে মেশিনের সাহায্যে জমির ওপর থেকে প্রায় ২ ফুঠ মাটি কেঁটে নিয়ে বাধগুলো বড় করেন। এবং এপ্রিল মাসে পূর্বের পদ্ধতি অনুসরণ করে ৬০ হাজার বাগদা রেনু ছেড়ে পরিচর্যা করেন। ১থশ ২০ দিনের মাথায় ঘের থেকে প্রায় ৪০ মন বাগদা আড়তে বিক্রি করে ১৪ লাখ টাকা আয় করেন। ওই বছর তার ১০ লাখ টাকা খরচ হলেও ৪ লাখ টাকা লাভ থাকে। তাছাড়া মাছ তোলার পর শীতের সময় ঘেরের জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের বাম্পার ফলন ও আইলে প্রচুর সবজি উৎপন্ন হয়। আর ওই বছরই ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে মিষ্টি পানির শ্রেষ্ঠ বাগদা চাষির পুরষ্কারও অর্জন করেন। পূর্ব-অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চলতি বছর আধা-নিবিড় পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য এপ্রিল(বৈশাখ) মাসে ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ঘেরটি পুনঃসংস্কারের পাশাপাশি পানিতে ১০টি এরেটর (অক্সিজেন প্লান্ট) ও চারপাশে ৫ ফুট উচু নেট স্থাপন করেন। এবং এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে উন্নত জাতের ৮০ হাজার বাগদা রেনু ছাড়েন। ইতোমধ্যে ১০১ দিনের মাথায় সরেজমিনে বাগদার বাম্পার ফলন দেখতে ও চাষি-কে উৎসাহিত করতে গত ৪ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ১১টায় তার খামার পরিদর্শন করেন, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও খুলনা- ৫ সাংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। ওই সময় ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিকথর সামনে ছোট খ্যাপলা-জাল দিয়ে ঘেরে খ্যাপন দিলে প্রতিবারে ৫০-৬০ পিস বড়-বড় বাগদা চিংড়ি উঠতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর গ্রামে মিষ্টি পানিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষির পুরষ্কার পাওয়া তবিবুর রহমান বলেন, এখন আমার স্বপ্ন, মিষ্টি পানিতে বাগদা-চিংড়ি চাষের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবো। পাশাপাশি আমি জাতীয় পুরষ্কারও জিততে চাই। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আশা করছি তবিবুরের ঘের থেকে এ বছর ২৮থশ কেজি বাগদা ধরা যাবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;