সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় হাত বাড়ালেই যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে ওষুধ। পেশাগত বৈধ কাগজ, সার্টিফিকেট না থাকলেও তারা নির্ভয়ে করে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা। এমনই ঘটনা ডুমুুরিয়া সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। বিশেষ করে সামান্য জ¦র-সর্দি, কাশিতে পড়ে স্থানীয় এলাকার হাতুড়ে ডাক্তারের চেম্বার বা মুদি দোকান হতে নিমেষেই কিনছেন ওষুধ, কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ পত্র ছাড়াই সেবন করছেন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। বিশেষ লাভের আশায় নিম্মমানের কোম্পানীর ওষুধ অহরহ বিক্রয় হচ্ছে এরা ডাক্তার হিসাবে রোগীদের সেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। ওই সকল ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন নিন্মমানের কোম্পানীর জ্বর-সর্দি কাশি, ব্যাথানাশক, মাথা ব্যাথা, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন ওষুধ। কখনো কখনো ঘটে হিতে বিপরীত ঘটনা, রোগী ওই ওষুধ খেয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে , পরে শরণাপন্ন হচ্ছেন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের । বিষয়টি নিয়ে যাদের মাথা ব্যাথা থাকার কথা, তারা যেন অনেকটাই নীরব! খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে ওষুধ বিক্রয় করতে গেলে অবশ্যই ফার্মাসিস্ট ডিগ্রীধারী হতে হবে। চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করলে ‘বি’ ক্যাটাগরী ও ৩ মাসের কোর্সধারী ‘সি’ ক্যাটাগরী প্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হবেন। সেই সাথে ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দেওয়া বেশ কিছু শর্তাবলী মেনে আবেদন পত্র জমা দিতে হয়। এসবের কোন নিয়মনীতির যেন রূপ বালাই নেয়। কেউ যদি ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষণ ছাড়াই ওষুধ বিক্রি করে তাহলে ড্রাগ আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান থাকলেও নিয়মনীতির যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছেনা। ফলে ফার্মাসিস্ট ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ডুমুরিয়ার প্রত্যান্ত এলাকাগুলোতে অবাদে চলছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কেনাবেচার ইচ্ছা-স্বাধীন মহড়া। দেখা গেছে, ডুমুরিয়ার স্থানীয় পাড়া-মহল্লাসহ খর্নিয়া,নতুন রাস্তা, গোনালী, শরাফপুর, কাঁঠালতলা, ১৮ মাইল, চুকনগর, শাহপুর, মাদারতলা, কাঁঠালিয়া, সহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে এই লাভজনক ব্যবসা। ওই সকল এলাকার মুদি দোকানে গিয়ে মাথা ব্যাথার ওষুধ চাওয়া মাত্র দোকানদার ডাক্তার দিয়ে দিচ্ছেন ওষুধ। কখন কিভাবে খেতে হবে, তার পরামর্শও দিচ্ছেন। সচেতন মহল বলছেন, ওষুধের মানহীনের পাশাপাশি কোনো অনুমোদন বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই যত্রতত্র জ্বর-সর্দি কাশিসহ বিবিধ রোগের ওষুধ অবাধে বিক্রির দরুন সাধারণ মানুষ প্রতারণার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কাও বাড়ছে। তারা অচিরেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মাসিস্ট বলেন, আমি নিজে ড্রাগ লাইসেন্সধারী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট হিসাবে যে সুবিধা ভোগ করছি যারা আইন মানছেনা তারাও সেই সুবিধা ভোগ করছে। ব্যবসায়ী আশুতোষ অধিকারী জানান, মানুষ সামান্য অসুখ , যেমন জ্বর-সর্দি মাথা ব্যাথাসহ নানা রোগ নিয়ে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে গিয়ে খেয়ে নেয় ওই সকল রোগের ওষুধ। এমনকি মুদি দোকান, ভ্যারাইটিস দোকান হতেও ক্রয় করে ওষুধ। তাদের নূন্যতম প্রশিক্ষণ নেই। ওই ওষুধ খেয়ে রোগ তো সারেই না, বরং বেড়ে যায়। কিন্তু প্রথমে চিকিৎসকের নিকট গেলেই কিন্তু ভালো হয়ে যেতে পারতো ওই রোগী তাছাড়া কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এটি জনস্বাস্থের পরিপন্থি ও হুমকির কারণ। স্বাস্থ্যহানীর অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়। অনুমোদন বা ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রয় হলে সেখানে মানহীন ও নকলের প্রবণতা বেড়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে ওষুধ প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন অধিদপ্তরকে যথাযথ মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত, সামান্য অসুখে পড়ে কিছু অসচেতন ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যতত্রত ছুটাছুটি করে ওষুধ খেয়ে থাকেন। কিছু ব্যবসায়ী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন রোগের ঔষুধ দিয়ে থাকেন অসুস্থ রোগীকে, যাদের নূন্যতম প্রশিক্ষন বা ওষুধ বিক্রয়ের অনুমোদন নেই। এতে মানুষের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেওয়া ওষুধ মানুষের জন্য উপকারের বিপরীতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন কি মৃত্যু হতে পারে।