ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ডুমুরিয়ায় অফ সিজনে তরমুজের বাম্পার ফলনে খুশী কৃষকেরা

সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
দূর থেকে দেখলে মনে হয় লাউ বা সোসা ঝুলে আছে। কাছে গেলে বোঝা যায়,সুতার জালে বাশের চটার তৈরি বিশেষ মাচায় ঝুলছে ছোট, বড় ও মাঝারি সাইজের বিভিন্ন রংয়ের তরমুজ। মাত্র ২/৩ মাসেই ডুমুুরিয়া উপজেলার মাদারতলা শেখেরট্যাক গ্রামের কৃষক মুনসুর সরদারের ক্ষেতে এমন বাম্পার ফলন হয়েছে। অসময়ের এই তরমুজের দামও ভাল হবে, এমন আশা মুনসুরের। তিনি বলেন, ‘নিজের অল্প জমি ১০ একর জমি হারিতে নিয়ে মাছ ও ধান চাষ করতাম, এতেই মোটামুটি আল্লাহর রহমতে ভালো চলে আমাদের সংসার। অন্যদের দেখাদেখিতে ঘেরের পাড়ে অফসিজন তরমুজের চাষ শুরু করি। তরমুজের বিচি, বাঁশ, কাঠ, সুতোর জাল, ও শ্রমিক মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। যে ফল হয়েছে, তাতে ৫ লক্ষ টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারব। তরমুজ শেষ হলে, এই মাচায় কুমড়ো, লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা যাবে।’অসময়ে তরমুজ চাষ সম্পর্কে কৃষক মুনসুর সরদার বলেন, এই চাষটি স্বাভাবিক লাউ-কুমরো চাষের মতোই, মাটিতে জৈব ও রাসয়নিক সার দিয়ে বিচি বপন করতে হয়। পরে গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। যখন বৃষ্টি থাকে না, তখন পানি দিতে হয়। তেমন খরচ না হলেও, যত্ন করতে হয় অনেক। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা ৪০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কেনার জন্য যোগাযোগ করেছেন। ভালো দাম ও চাষাবাদ সহজ হওয়ায় ডুমুুরিয়া উপজেলার অনেকেই অসময়ের তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। তবে আমাদের প্রত্যান্ত এলাকায় বাড়ি আমরা উপজেলা কৃষি অফিসারদের কোন পরামর্শ নিতে পারিনা। কৃষি অফিসারদের পরামর্শ পেলে আরো তরমুজ সহ অনান্য সবজি অধিক ফলন ফলাতে পারতাম। খর্নিয়া এলাকার আফজাল শেখ নামের আরেক কৃষক বলেন, মাছের ঘেরের আইলে এই প্রথম ৭০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। কেমন লাভ হবে বেচা বিক্রির পরে বোঝা যাবে। ডুমুুরিয়া উপজেলার পাচপোতা গ্রামের ইলিয়াজ মোল্লা একই এলাকার মনিরুল মোড়ল বলেন, অফসিজন তরমুজ চাষ করে তরমুজের ভালো ফল ঝুলেছে মনে হচ্ছে গত বারের তুলোনায় এবার লাভ বেশি হবে। খুলনার ডুমুুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন (তুহিন) বলেন, এবার উপজেলায় ৩০১ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে তরমুজের ফলন ভালো, খুশি কৃষক-ব্যবসায়ী তিনি আরো বলেন,তরমুজের উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে কৃষকদের সঙ্গে মাঠে যেয়ে সারাক্ষণ কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ এবং সার দিয়ে সহায়তা করি পরামর্শও দিয়ে থাকি।
এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো বলে তরমুজের আবাদ ভালো হয়েছে। আর তাই কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে মহাখুশি।

;