ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে সয়ার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) কলেজছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন।

জানা গেছে, ২ বছর আগে উপজেলার সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ও পল্লি চিকিৎসক আল ইবাদত হোসেন পাইলটের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেদিন তারাগঞ্জ চৌপথী এলাকায় ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে আসে ওই কলেজছাত্রী। পরে উভয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন নম্বর আদান-প্রদানের মাধ্যমে সর্ম্পক গড়ে উঠে। এরই একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাবসহ শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য প্রস্তাব দেন। চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রস্তাবে কলেজছাত্রী রাজি না হলে পরে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই কলেজছাত্রী চেয়ারম্যানকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে আজ-কাল করে টালবাহানা করতে থাকেন। চেয়ারম্যান বিয়ে করবে না এ বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ছাত্রী নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলা বন্ধ রাখেন। গত ১ অক্টোবর সকাল ৯টায় চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলট তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীর মোবাইলে ফোন দিয়ে তার সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার জন্য তারাগঞ্জ চৌপথীস্থ চেম্বারে আসতে বলেন। ছাত্রী চেয়ারম্যানের কথা মতো তার চেম্বারে আসলে ফের কুপ্রস্তাব দিলে ছাত্রী অসম্মতি জানায়। পরে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করে রংপুর বিভাগীয় শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে তার সাথে ঘর-সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে রাজি করেন। পরে ২ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে অবস্থিত কুর্শা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিজস্ব বাসায় চেয়ারম্যান ছাত্রীকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ওই কলেজছাত্রী তাকে বিয়ে করার কথা বললে চেয়ারম্যান কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বললে পরিবারের লোকজন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলটকে তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি বলেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রী পরিবারের লোকজনকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলটের মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তারাগঞ্জ থানা ওসি (তদন্ত) জহুরুল হক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এবং সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান পাইলটকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

;