এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে : জয়পুরহাট জেলার, আক্কেলপুর উপজেলার, গোপীনাথপুরে প্রতি বছরের মতো এবারও দোল পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা শুরু হলেও, বিনোদন প্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে যাত্রাপালা ও সার্কাস বন্ধের খবর। বিশেষ করে প্রখ্যাত ‘চৈতালি অপেরা’সহ দুটি যাত্রাদল মঞ্চস্থ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় তা স্থগিত করা হয়েছে। মেলার দীর্ঘ ইতিহাসে যাত্রাপালা ও সার্কাস ছিল অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। এবারও ‘চৈতালি অপেরা’র মতো নামী দলের যাত্রাপালা মঞ্চস্থ করার সব রকম প্রস্তুতি ছিল আয়োজক কমিটির। কিন্তু জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন এবার কোনো ধরনের যাত্রাপালা বা সার্কাসের অনুমতি দেয়নি। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত জানান: “আমি সরেজমিনে মেলা পরিদর্শন করেছি। মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক টিম কাজ করছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এবার বিনোদনমূলক যাত্রা ও সার্কাসের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।” এই সিদ্ধান্তের ফলে মেলায় আসা হাজারো সংস্কৃতিমনা মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা কেবল যাত্রাপালা দেখার উদ্দেশ্যে মেলায় আসতেন, তাদের উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে গেছে। যাত্রাপালা বন্ধ থাকলেও মেলার বাণিজ্যিক ও ঐতিহ্যবাহী দিকগুলো এখনো প্রাণবন্ত। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, “গোপীনাথপুরের এই মেলাটি আমাদের অঞ্চলের গর্ব। ৫১৯ বছর ধরে এটি সফলভাবে চলে আসছে। তবে এবার বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলো না থাকায় মেলার চাকচিক্য কিছুটা কমেছে।” আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন রেজা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেলায় ব্যবসায়ীরা এসেছেন। তাদের ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঐতিহ্য ও বাণিজ্যের মেলবন্ধনে গোপীনাথপুর মেলা সচল থাকলেও ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে যাত্রাপালা বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে। একদিকে নিরাপত্তার কঠোর চাদর, অন্যদিকে চিরায়ত বিনোদনের অভাব—এই দুইয়ের মাঝেই চলছে ৫১৯ বছরের এই প্রাচীন লোকজ মেলা।