জানেন না ইভিএম কী? কীভাবে ভোট দিতে হয় এই মেশিনে। অনেকেই জোর করে ভোট নিচ্ছেন পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে। এ নিয়ে প্রায় হাতাহাতি পর্যায়। সেই সঙ্গে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা ছিল না ভোট কেন্দ্রে, ভোটারদের মাঝে। এভাবেই শেষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ভোট গ্রহণ। ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের ভিমরুল্লাহ গ্রামের শতবর্ষী মওলা বকশ মণ্ডল। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় (৭.৭ ডিগ্রি) তীব্র শীতের মধ্যেও লাঠিতে ভর দিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন ভোট কেন্দ্রে। প্রত্যেকটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার পারলেন না। তার আঙুলের ছাপ ওঠেনি মেশিনে। তাই ভোট না দিয়ে ফেরত যেতে হলো তাকে।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় নারী ভোটার বেশি। ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতিও ছিল বেশ। তবে নিজের ভোট দিতে পারেনি অনেকেই। অভিযোগ, ‘জোর করে তাদের ভোট দিয়ে দেয়া হয়েছে’।
করোনার হটস্পট ছিল চুয়াডাঙ্গা। দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোট। তবে স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা নেই ভোট কেন্দ্রে, ভোটারদের মধ্যে। নূন্যতম মাস্কটুকুও নেই ।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৬৭ হাজার ৮০৮ জন ভোটার পৌর নির্বাচনে পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করবেন। নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
এ ছাড়া, নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর তিনটি পদে মোট ১৩ জন প্রার্থী এবং সাধারণ কাউন্সিলর ৯টি পদে ৬৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
১ নং ওয়ার্ডের ভেমরুল্লাহ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, মওলা বকশ’র অনেক বয়স হয়েছে। হয়তো সে কারণে তার হাতের ছাপ ওঠেনি।
তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহমেদ।
রেজাউল করিম লিটন