ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ফোনে ডেকে নিয়ে খুন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় মনিরুল ইসলাম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মনিরুলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাশকররা গ্রামের হাকিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুরিশ সুপার (সদর) জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশের ধারণা, গলায় গামছা পেচিয়ে বা শ্বাসরোধ করে মনিরুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। নিহত মনিরুল ইসলাম আলমডাঙ্গা উপজেলার খাশকররা ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত আসের আলীর ছেলে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্ত্রী নাছিমা বেগম ও দুই ছেলে নাজিম (১৪) ও সাজিদের (১০) সাথে বসে ঘরে টিভি দেখছিলেন মনিরুল ইসলাম। এসময় কেউ একজন তাকে মোবাইল ফোনে ডাকলে আসছি বলে সে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে নাজিম বাড়ির বাইরে শব্দ ও আমিরুলের চিৎকার শুনে ছুটে গেলে টিউবওয়েলের পাশে তার বাবাকে পড়ে থাকতে দেখে। এসময় সে বাড়ির অদূরের মণ্টুর চায়ের দোকান থেকে তার ছোট চাচা ছমিরুলকে ডেকে আনে। পরে পরিবারের সদস্যরা মনিরুলকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়।

নিহত মনিরুলের ছোট ভাই ছমিরুল বলেন, ‘আমি বাড়ির পাশের মণ্টুর দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এসময় নাজিম আমাকে ডেকে বলে তার বাবা কলের পাড়ে পরে আছে, কয়েকজন তাকে মেরে কলের পাড়ে ফেলে রেখে গেছে। এসময় আমি স্থানীয় মেম্বরকে খবর দিই ও মেম্বারের সঙ্গে ভাই মনিরুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

মনিরুলের স্ত্রী নাছিমা অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে আমার স্বামীর মোবাইলে কল আসে। আমার ম্বামী মোবাইলে আসছি বলে বাইরে চলে যায়। ওকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার স্বামী পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় গ্রামের কয়েকজন ওকে মারধরও করেছে। ১০ দিন পূর্বেও আনোয়ার কসাইয়ের ছেলে মিজান আমার স্বামীকে খুন করবে বলে হুমকিও দিয়েছিল। ওদের নেশা করার কথা পুলিশে বলে দেওয়ার কারণেই আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে।’
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাশকররা ইউনিয়ন আট নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর আশরাফ আলী বলেন, ‘রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মুনরুলের ছোট ভাই ছমিরুল আমার মোবাইলে ফোন করে জানায় তার ভাইকে কারা মেরে ফেলে রেখে গেছে, হাসপাতালে নিতে হবে তারাতারি আসেন। অচেতন অবস্থায় মনিরুলকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘খাশকররা ইউনিয়নের হাকিমপুরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। অনেকেই বলছে তিনি আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সোর্স ছিল, এটা সত্য নয়। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এমন কোনো সোর্স নেই। তবে আমি এখানে আসার পূর্বে নিহত মনিরুল পুরিশকে মাঝে মধ্যে তথ্য দিত বলে শুনেছি।’

ডেস্ক রিপোর্ট

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;