রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেলপথ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। যোগাযোগের অন্যতম সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম হলো রেলপথ। সমগ্র বাংলাদেশকে রেলের আওতায় নিয়ে আসার জন্য রেলপথ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের দিকে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনার ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের এলাইনমেন্ট (সেতু নম্বর-১০) পর্যন্ত এবং মোহাম্মদনগর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফকালে তিনি একথা বলেন।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, ফুলতলা-মোংলা পর্যন্ত রেলপথ চালু হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। মোংলা বন্দর ব্যবহার করে কম খরচে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করার সুযোগ ঘটবে। এতে করে সরকারি রাজস্ব বাড়বে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিকাশ ঘটবে পর্যটন শিল্পের।
তিনি বলেন, রূপসা নদীর ওপর ৫.১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর রেলসেতুর কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ফুলতলা-মোংলা রেলপথের ৯৮.০৫ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। আগামী ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা-মোংলা রেলপথ উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর, প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান, খুলনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুকুল কুমার মৈত্র, উপপ্রকল্প পরিচালক (চিফ ইঞ্জিনিয়ার) আহমেদ হোসেন মাসুম, খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরিফুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, খুলনা-মোংলা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টার্বো। এ ছাড়া ট্র্যাক লিংকিং করছে আরেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনাল। ফুলতলা-মোংলা পর্যন্ত নয়টি প্লাটফর্ম রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শেষ হয়েছে ১০৭টি ছোট ব্রিজ ও ৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ। ফুলতলা-মোংলা পর্যন্ত ডাবল লাইনের রেলপথ প্রকল্পের মোট ৯১ কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। পরে মন্ত্রী বাগেরহাট জেলায় মোংলা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন।
ইত্তেফাক