সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় মোটর সাইকেলের নম্বরপ্লেটের পরিবর্তে লিখে রেখেছেন ‘জরুরি ডিশ’ (কেবল ব্যবসা)। আবার কেউ জরুরি ‘বিদ্যুৎ’। কেউ ‘পুলিশ’, কেউ ‘গ্রাম পুলিশ’। আবার কেউ ‘সাংবাদিক’। ‘অন-টেস্ট’ লিখে রেখেছেন অসংখ্য ব্যক্তি। আবার মোটরসাইকেলের বিক্রয়কেন্দ্রের নাম লেখা নম্বরপ্লেটের সংখ্যাও কম নয়। ডুমুরিয়ায় মোটরসাইকেলের চালকেরা এভাবে নিবন্ধন না করেই মাসের পর মাস ধরে চলাচল করছেন। সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। আর এই রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেলের কারণে একদিকে যেমন সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার অবনতিও হচ্ছে। কারণ সন্ত্রাসীরা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে এই নম্বর বিহীন মোটর সাইকেল ব্যবহার করছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী যাদের এগুলো রোধ করার দায়িত্ব তারাও স্বীকার করছেন বিষয়গুলো, তবুও যেন কিছুই করার নেই। অনেক কর্মকর্তা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথা বলে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানালেন। খুলনা বিআরটিএ কার্যালয়ে থেকে যতগুলো মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে। মনে হয় তার থেকে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেল রয়েছে দ্বিগুন বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। আবার এমন অনেক মটর সাইকেল রয়েছে যেগুলো রেজিষ্ট্রেশন না করেই তার বয়স শেষ হয়ে গেছে। খোজ নিয়ে দেখা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪ টি ইউনিয়নেই প্রায়ই চোখে পড়ে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন শত শত মোটর সাইকেল। এগুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ রয়েছে অন-টেষ্ট, আর শো’রুমের নাম। এছাড়াও রয়েছে নানা কথা লেখা নম্বার প্লেটে। যেমন রয়েছে জরুরী ডিশ কাজে নিয়োজিত, জরুরী বিদ্যুৎ। প্রশাসনের কেউ কেউ লিখে রেখেছেন পুলিশ। অনেক সংবাদকর্মী লিখে রেখেছেন প্রেস। অনেকে সংবাদকর্মি না হয়েও লিখে রেখেছে সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের অফিসের নাম লিখে রেখেছেন। এগুলো সব সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই চলছে, কিন্তু প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। মাঝে মধ্যে রাস্তায় ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের চেকপোষ্ট বসতে দেখা যায়। কিন্তু মোটর সাইকেল মালিকরা যেন এর বাইরে থেকে যায়। অবশ্য একাধিক মোটর সাইকেল মালিক জানিয়েছেন, তারা কষ্ট করে মোটর সাইকেল কেনার পর রেজিষ্ট্রেশন করতে বিআরটিএ অফিস গেলে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। এছাড়াও কাগজপত্রের ত্রুটি দেখিয়ে চলে নানা হয়রানী। যে কারনে তারা রেজিষ্ট্রেশন করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কষ্ট করে সাইকেল কেনার পর ঘুষ দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা তাদের জন্য দূঃখজনক ঘটনা বলে মনে করেন অনেকে। এ ব্যাপারে খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ সাখায়াত হোসেন বলেন, আমরা মাঝে মধ্যেই অন-টেষ্ট মটর সাইকেলগুলো আটক করে থাকি। অনেকে রেজিষ্ট্রেশন করে তারপর মটর সাইকেল নিয়ে যান। এভাবে পূর্বের চেয়ে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মটরসাইকেল অনেক কমে এসেছে। আগামীতে আরো শক্ত ভাবে এগুলো রোধ করা হবে বলে তিনি জানান।