সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের আধারমানিক গ্রামের বুক ছিঁড়ে বয়ে গেছে দুয়ানিয়া নদী। সেই নদী পার হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে আসা যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বাঁশের সাঁকো অথবা ভেলা। জানা যায়, ঐ নদীর পুর্ব – দক্ষিণ পাড়ে ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীগণ। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নদীর ওপারের আধারমানিক, বটিয়ারা,বয়েশিং, ও পুটিমারি গ্রামের শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলা, ডিঙ্গি নৌকায় পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। শুকনো মৌসুমে পানি কমলে নদীতে দেওয়া হয় বাঁশের চিকন সাঁকো বা ভেলা । প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের এই বাঁশের সাঁকো বা ভেলায় হামাগুড়ি দিয়ে পাড় হতে হয়। প্রায় সময় পার হতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। এসময় তাঁদের বই-খাতা খোয়া যায়, ভিজে নষ্ট হয়ে যায় ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়। তাদের এ সমস্যা নিত্যদিনের।এলাকাবাসী জানান,যুগ যুগ ধরে এ এলাকার শিক্ষার্থীদের কষ্ট-দুঃখের কথা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কাছে জানিয়ে আসলেও কর্ণপাত করছেন না কেউ-ই। নদীতে একটি ব্রিজের কাজ শুরু হলেও দু- তিন বছরেও শেষ হয়নি। তাছাড়া উত্তর দিকের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটি বেহাল দশা। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষ। আধারমানিক গ্রামের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তি মন্ডল জানায়, নদীর পাড়েই তার বাড়ি। স্কুল থেকে তাঁর বাড়ির দুরত্ব কয়েকশ গজ। তাদের বাড়ির কাছে আর কোন বিদ্যালয় নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা প্রতিদিন জীবনের ঝঁকি নিয়ে এই এক বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাই। বর্ষা মৌসুমে নদীতে যখন প্রবল স্রুত ও ভরা পানি থাকে, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসতে হয় । নদীতে ব্রীজটি হলে আমারা নিশ্চিন্তে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারতাম। আধারমানিক গ্রামের তপন মাস্টার জানান, আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে সবসময়ই ভয়, আতংক ও দুশ্চিন্তায় থাকি। কারণ, কখন কোন দূর্ঘটনার খবর আসে। প্রায়ই ছেলে-মেয়েরা বই-খাতা ভিজে যাওয়ায় কান্না করে বাড়িতে ফেরে। একটি ব্রীজের জন্য যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়ে যদুও ব্রিজের কাজ শুরু করলেও শেষ হচ্ছে না। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পিনাক মন্ডল বলেন, এখানে একটি ব্রীজের কাজ শুরু করলেও শেষ হবে কোন লাগাত বুঝে উঠতে পারছিনা কাজটি শেষ হলে শিক্ষার্থীরা যেমন নির্বিঘ্নে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারতো তেমনি এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম হতো। এ,কে,বি,কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান মন্ডল জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রীই নদীর ওই পাড়ের বাসিন্দা। সীমাহীন কষ্ট করে প্রতিদিন তারা স্কুলে আসে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টি বাদলের দিন তাদের কষ্টের আর সীমা থাকে না। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় তারা। স্কুল সংলগ্ন ব্রিজটি তাড়াতাড়ি নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। এব্যাপারে আধারমানিক ইউপি সদস্য পতিরাম হালদার জানান, ছাত্র ছাত্রী ও জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে যতো দুরুত্ব সম্ভব ব্রিজের কাজটি সম্পন্নকরণে তাগিত দেব। ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন,স্কুলের শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারের বিষয়টি খুবই কষ্টের। কিন্তু আমাদের করার কিছুই নাই, বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।